যৌতুক বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে যৌতুক নিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে। অথবা যদি কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কনে বা বরের পিতামাতা বা অভিভাবকের নিকট যৌতুক দাবি করে তবে সে ক্ষেত্রে অনুরূপ শাস্তি প্রাপ্ত হবে। বিচারক অপরাধীকে একসঙ্গে উভয় দণ্ড দিতে পারেন। যৌতুক আদান-প্রদানে সহায়তাকারীও একই শাস্তি পাবে।
১৯৮৬ সালে যৌতুক নিরোধ আইন সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ করলে অপরাধী সর্বনিম্ন একবছর এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে। ১৯৮৩ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিধান অনুযায়ী যৌতুকের কারণে নির্যাতন করে নারীর মৃত্যু ঘটালে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করলে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে ও যৌতুক গ্রহণের জন্যও কঠিন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
যৌতুক প্রথা বাংলাদেশের পরিবার ও সমাজ জীবনে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি করেছে। এ প্রথার কুফল থেকে মুক্ত হতে হলে আমাদের সচেতন হতে হবে। যৌতুক প্রতিরোধ করার জন্য প্রথমেই সচেতন করতে হবে পরিবারকে। যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া থেকে নিজেদের বিরত থাকতে হবে।
পরিবারের কন্যা সন্তানসহ সবাইকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা দরকার। তারা আত্মনির্ভরশীল হলে যৌতুকের অভিশাপ তাদের স্পর্শ করতে পারবে না।
কাজ- ১: যৌতুক নিরোধ আইনে কী বলা হয়েছে ব্যাখ্যা কর। |
common.read_more